জয় রাম জয় গোবিন্দ | অন্তরের শান্তির পথ | শ্রী শ্রী রামঠাকুরের বেদবাণী |Inner Peace & Spiritual Truth

 আশ্রম প্রতিষ্ঠার পেছনের গল্প: শ্রীশ্রীঠাকুর রামচন্দ্রদেব ও ভক্তদের নিবেদন"



“অশক্ত শরীরে, অনন্ত প্রেম ও করুণার বার্তা নিয়ে তিনি ছুটে বেড়াতেন এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে।
কোনো স্থানে স্থির না থেকে, তিনি খুঁজে ফিরেছেন সেই আশ্রয়, যেখানে ভক্তদের হৃদয় মেলে ধরা যায়।
ভক্তদের প্রার্থনায় অবশেষে নির্মিত হল এক পবিত্র আশ্রম — পাহাড়ের কোলে, শ্রীশ্রীঠাকুরের জন্য।

অশক্ত দেহ নিয়েও ঠাকুর এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতেন। কোথাও স্থির হয়ে থাকতেন না। অপটু দেহ নিয়ে এমনি দিনের পর দিন ঘুরে বেড়ানো ঠাকুরের পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। অবশ্য এই অসুবিধার কথা মুখ ফুটে তিনি কোনদিন বলেন নি।
ভক্তগণ এ বিষয়ে চিন্তিত হয়ে পড়লেন এবং ঠাকুরের জন্য একটি স্হায়ী আশ্রমের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হলেন।অনেক সময় ভক্তেরা বলতেন, "এ বয়সে আপনার আর ঘুরে বেড়ানো সম্ভব নয়; এখন এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে পড়ুন।"
এরূপ প্রস্তাবের উত্তরে ঠাকুর বলতেন, "কই,স্থির হতে তো পারি না।"
ভক্তগণ রব তুললেন, ঠাকুরের জন্য আশ্রম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেই আশ্রমে ঠাকুর স্থায়ীভাবে থাকবেন আর ভক্তরা সুযোগ সুবিধা মত সেখানে গিয়ে ঠাকুরকে দর্শন করে আসবেন।ঠাকুরও ভক্তদের আকাঙক্ষায় সায় দিয়ে বললেন, "আশ্রম করা তো ভালই।"
তখন সকলেই মনে করলেন, ঠাকুর সম্মতি দিয়েছেন আর দ্বিধার কারণ নেই। তারপর আশ্রম প্রতিষ্ঠার স্থান নির্বাচন করার জন্য অনেকে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ঢাকার শহরতলীতে স্থান নির্বাচনের জন্য চেষ্টা আরম্ভ হল।শ্রীশ্রীঠাকুরও একদিন আমাদের কয়েকজনকে সাথে নিয়ে শহরের উত্তরপ্রান্তে একটি স্থান দেখে এলেন। কিন্তু তিনি কোন মন্তব্য করলেন না।
ঠাকুর তখন পুরীতে। সেখান থেকে খবর এলো, আশ্রমের জন্য ঐ অঞ্চলে ৮০ বিঘা জমি পাওয়া যেতে পারে। এ প্রস্তাব ভক্তগণ সমর্থন করতে পারলেন না। ইতিমধ্যে ঢাকার ভক্তগণ, শহরের পশ্চিমপ্রান্তে ৭বিঘা উন্নত ভাল জমি পছন্দ করলেন। এ সংবাদ ঠাকুরকেও জানান হল।আর বিলম্ব না করে জমির বায়না দিবার দিন স্থির করে টাকা সংগ্রহ করা হল।নির্দিষ্ট দিনে বায়নার টাকা নিয়ে রওনা হবার পূর্ব মুহুর্তে পুরী হতে টেলীগ্রাম এলো,জমি কেনা স্থগিত রাখ।
কয়েক মাস পরে সংবাদ এলো চট্টগ্রাম শহরের তিন মাইল দূরে পাহাড়তলী রেল স্টেশনের অদূরবর্তী ক্ষুদ্র পাহাড়সহ আশ্রমের স্থান সংগ্রহ করা হয়েছে এবং শ্রীশ্রীঠাকুর সম্মতি দান করেছেন। শ্রীশুভময় বাবু প্রভৃতি ভক্তগণ আইনসঙ্গতভাবে স্থানটি গ্রহণের ব্যবস্থা করলেন।
আশ্রম বাঢ়ী নির্মাণকল্পে চারদিক থেকে ভক্তগণ যে যা পারলেন অর্থ পাঠাতে লাগলেন। ঠাকুরের কৃপায় এবং ভক্তগণের সমবেত চেষ্টায় পাহাড়ের উপর সুদৃশ্য আশ্রম নির্মিত হল।বিশিষ্ট ভক্ত বিধুবাবুর আন্তরিক চেষ্টায় আশ্রমের নির্মাণকার্য সমাধা হল।
তারপর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল যে শ্রীশ্রীঠাকুর ১৩৩৭ সনের ১৫ই ফাল্গুন আশ্রমে প্রবেশ করবেন।ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দের ঢেউ বয়ে গেল।প্রবেশ উৎসবের পূর্ব্বদিন আমরা ঢাকা থেকে একদল রওনা হলাম।পথে স্টীমার ও ট্রেনে বহু অজ্ঞাত পুরুষ ও মহিলা ভক্তের সহিত আমরা চিরপরিচিতরূপে মিলিত হলাম।
শ্রীশ্রীঠাকুর রামচন্দ্রদেব
শ্রী সুশীল চন্দ্র দত্ত
বি এ বি টি

“ভক্তের বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মিলনে গড়ে ওঠে পবিত্রতার এক অনন্য নিদর্শন — এই আশ্রম।
১৩৩৭ সনের ১৫ই ফাল্গুন, সেই আশ্রমে ঠাকুর প্রবেশ করলেন — এক নতুন যুগের সূচনা ঘটলো।
আজও সেই পবিত্র স্থানে পৌঁছালে হৃদয় শ্রদ্ধায় নত হয়।
আসুন, আমরা সকলে মিলিত হই ঠাকুরের আদর্শে, ভালোবাসায়, ও করুণায়।”

📢 ভিডিওটি ভালো লাগলে, লাইক দিন, শেয়ার করুন ও চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করতে ভুলবেন না। জয় গুরু! 🙏

Post a Comment

Previous Post Next Post