ওঁ নমো ভগবতে শ্রীরামচন্দ্রায় নমো নমঃ
বংশধর - মনেন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক সঙ্কলিত 
১২ই বৈশাখ,---১৩৭০ বাংলা
২৬শে এপ্রিল, ১৯৬৩ ইংরেজি।।
১/ বিষয় *******-- মুখবন্ধ।
২/জন্ম ও বংশ পরিচয় -- পৃষ্ঠা ----৯। (৮ম পর্ব)
শ্রীশ্রীরাম ঠাকুরের জীবন কথা------
জন্ম ও বংশ পরিচয়।। (ভাগবত)
ভাগবত- ৬-১৬-১০ জ্ঞাতি ঃ
১-সকুল্য- তৃতীয় পুরুষ পর্যন্ত।
২- সনানোদক- চতুর্থ পুরুষ পর্যন্ত বা জন্মনাম
স্মৃতি পর্যন্ত।
৩- সপিণ্ড - সপ্তম পুরুষ পর্যন্ত।
৪- গোত্রজ- পিত।বংশ সপিণ্ডাদিরূপ একগোত্রজ
পিতৃব্য পর্যন্ত।
তাহলে দেখা যাচ্ছে -- জন্ম সম্বন্ধ- ধরেই জ্ঞাতি বলা হয়।
এক বংশজাত ব্যক্তিই পরস্পর জ্ঞাতি হন।
কিন্তু ঈশ্বর তো " অজ'' অর্থাৎ জন্মরহিত অতএব তাঁর জ্ঞাতি অসম্ভব। কিন্তু ঈশ্বর সর্বেশ্বর হয়েও
কখনো প্রেমাধীনতা বা ভক্তবাৎসল্য ছাড়েন না।তাই তিনি অজ হয়েও- ভক্তের বাৎসল্য ও প্রোমের অধীন হয়ে ভক্তের বংশে জন্মগ্রহণ করেন বলে ধরা হয়ে থাকে - যদিও এটা মায়িক-
অভিনয়মাত্র।
গীতায় (৪/৬) রয়েছে --
অজোহপি সন্নব্যয়াত্মা ভূতানামীশ্বরোহপি।
প্রকৃতিং স্বামধিষ্ঠায় সম্ভবাম্যাত্মমায়য়া।।
গীতায় শ্রীকৃষ্ণ নিজেই বলেছেন (৪/৯)---
জন্মকর্মচমে দিব্যম্ --
আমাদের আরো মনে রাখতে হবে- জীবের জন্ম কর্মাধীন আর ঈশ্বরের জন্ম প্রেমাধীন।
জন্ম ও বংশ পরিচয় ---
বাংলা ১২৬৬সনের ২১শে মাঘ,বৃহস্পতিবার পূর্বাহ্নে রোহিণী নক্ষত্রযুক্ত শুক্লা দশমীতে ফরিদপুর জেলায় মাদারীপুর মহুকুমার অন্তর্গত
ডিঙ্গামানিক গ্রামে রাঢ়ীয় ভরদ্বাজ গোত্রে ব্রাহ্মণ কুলে পরম দয়াল শ্রীশ্রীরাম ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁহার পিতা ঁ রাধামাধব বিদ্যালঙ্কার ; মাতা কমলা দেবী।
রাধামাধব বিদ্যালঙ্কার মহাশয়ের পৈত্রিক বাসভবন ছিল ডিঙ্গামানিক হইতে দশ মাইল উত্তর -পশ্চিমে জপ্সা গ্রামে।জপ্সা এক সময়ে বহু কৃতবিদ্যা ও বহু ধনাঢ়্য ব্যক্তির বাসস্থান বলিয়া এতদঞ্চলে সবিশেষ প্রসিদ্ধি লাভ করিয়াছিল।
ব্রাহ্মণ,বৈদ্য,কায়স্থ প্রভৃতি নানা বর্ণের বহু লোক এখানে বাস করিতেন।তন্মধ্যে বৈদ্যবংশীয় ভূমাধিকারিগণই ছিলেন সমধিক প্রসিদ্ধ।
তাঁহাদের বহু কীর্তি বক্ষে ধারণ করিয়া তৎকালে
এই জপ্সা দেশী ও বিদেশী অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়াছিল।মনোহর অট্টালিকা, বহু দেব
দেবীর মন্দির,প্রশস্ত রাজপথ,সুবৃহৎ দীর্ঘিকা ও
বিবিধ কুসুম শোভিত উদ্যান এই স্থানের অধিবাসী
দের সম্পদ্,সুরুচি,সভ্যতা,বদান্যতার পরিচয় দিত
অনেক দূর হইতে ইহার অতি উচ্চ মন্দির ( মঠ)
অনুসন্ধিৎসুগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করিত।
জন্ পিটারসন্ নামক তৎকালীন জনৈক রাজ কর্মচারী জপ্সার একটি সুগঠিত দেওয়াল ও পরিখার দ্বারা সুরক্ষিত বাসভবন লক্ষ্য করিয়া ইহাকে একটি কেল্লা বলিয়া ভ্রম করিয়াছিলেন।
সার্ভেয়ার জেনারেল মেজর ডেনল বহুদূর হইতে ইহার এক অতি উচ্চ মঠের চূড়া লক্ষ্য করিয়া এই
স্থানে উপনীত হন এবং তদীয় মানচিত্রে ইহার চিত্র অঙ্কিত করেন।এই চিত্র তিনি যাহা লিখিয়াছেন তাহার বঙ্গানুবাদঃ
" জপ্সার পেগোডা খুব উচ্চ,বহু দূর হইতে ইহা দৃষ্টিগোচর হয়।চারিদিকের অঞ্চল বেশ মনোরম।
জপ্সার পেগোডা উভয় নদী (মেঘনা ও পদ্মা) হইতে স্পষ্টরূপে দেখা যাইতে পারে। '' ঢ়াকা বিভাগের তৎকালীন স্কুল ইন্সপেক্টার সাহেব জপ্সার দেব বিগ্রহের সৌন্দর্য ও পারিপাট্য দেখিয়া মুগ্ধ হইয়াছিলেন এবং পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে
উহাদের পরিচয় লইয়া নিজ " ডায়েরীতে'' লিপিবদ্ধ করিয়াছিলেন।
ক্রমশঃ -- প্রাণের ঠাকুর শ্রীশ্রী জীবনীগ্রন্থ জানতে হলে আপনাদেরকে ধৈর্য ধরে সব পড়তে হবে। এই সাথে সাথে গীতা ও ভাগবত কথা জানতে পারবেন।
জয় গুরুদেব জয় রাম জয় সত্য নারায়ণ
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।।
(বিঃদ্রঃ - এই পর্বগুলো নিজের কাছে রাখুন। এই দুর্লভ গ্রন্থ পাওয়া বড় মুশকিল।।)
প্রারব্ধের ভোগ কাটে কিনা ইহাই অনেকের প্রশ্ন। ইহার উত্তর এই - কাটান যায়, কিন্তু তাহা ঠিক নহে। বাস্তবিক পক্ষে ঐ ভোগ কাটে না - একমাত্র ভোগের দ্বারা উহার নিবৃত্তি হয়। যোগবলে অথবা অন্য কোন উপায়ে উহাকে সরাইয়া ফেলা যায়, ইহা সত্য। কিন্তু তাহা সঙ্গত নহে, কারণ এই দেহ অনিত্য বলিয়া কোন না কোন সময়ে উহার ত্যাগ অবশ্যম্ভাবী। দেহত্যাগ হইলেই ঐ শুন্যস্থিত বিতাড়িত কর্মগুলি আকর্ষণ - বলে আবার আত্মাকে দেহ গ্রহণ করিতে বাধ্য করিবে। তবে সে দেহে আর নতুন কর্ম হইবে না ইহা সত্য। জীব যখন সংসারে আসে তখন স্বীকারপত্র দিয়া আসে - যে যে ভোগ তাহার প্রাপ্য তাহা অঙ্গীকার করিয়া আসে। তাই তাহাকে নিজের পাপ্য ভোগ গ্রহণ করিতেই হয়। যে তাঁহার শরণাগত তাহাকে তিনি ঐ দেহেই সমস্ত ভোগ করাইয়া নেন, পরে কাছে লইয়া যান, আর তাহাকে আসিতে দেয় না। তাহার কোন ভোগ বাকী থাকে না। ধৈর্য্যের সহিত প্রারব্ধ ভোগ করা উচিত, বাধা দিতে নাই। বাধা দিলে ভোগ কাটে না। একমাত্র অনুগত হইলে প্রারব্ধ কাটিতে পারে - প্রারব্ধ কাটিবার দ্বিতীয় কোনো উপায় নাই।
.
.
মহামোহোপাধ্যায় ডক্টর গোপিনাথ কবিরাজ - রাম ঠাকুরের কথা






