তুমি শুন নাই ? মহাপ্রভু চৈতন্যদেবের অত বড় দীর্ঘ দেহটা টোটা গোপীনাথের সঙ্গে শূন্যে বিলীন হইয়া গেল । : - - - শ্রীশ্রী রামঠাকুর । জয়রাম 卐 জয়গুরু । 🌼 শুভ সকাল । শ্রীঠাকুর বলেছেন ,, চিন্তা দ্বারা ধৈর্য্যশক্তি পরিবর্ধিত হইয়া সকলঋণ পরিশোধনের সহায়ক হয় । চঞ্চলতা প্রযুক্তে ভরাডুবি হইতে পারে না । প্রারব্ধ , প্রাক্তন , ভাগ্য , অদৃষ্ট , নিয়তি , দৈব-- সবই কর্তৃত্ব বুদ্ধি থাইকা উদ্গম । সংসারে মায়ার নাটে পাইরা দেব , দানব ,গন্ধর্ব ,সিদ্ধচারণাদি পর্যন্ত প্রারব্ধ ভোগ করতেছেন । মানবের আর কি কথা ! মহামহান পুরুষেরা - সত্য , ত্রেতা , দ্বাপর ,কলি চার যুগ ব্যাপী ভগবানের অবতার হইয়াও প্রারব্ধ দন্ডভোগ দানে বিরত থাকেন নাই । অতএব সদা সর্বদা গুরু ভরসায় থাইকা ভাগ্য ভোগ কাটাইয়া পুনরায় সকলি ফিরা পায় । গুরু বলতে নামই গুরু । গুরুদেহে নামের দেহ । সুতরাং নাম এবং গুরুদেহ একই বস্তু জাইনা নাম নিয়া পাইরা থাকতে হয় । কালের মহাচক্র আবর্তিত হইতেছে । শ্রীঠাকুর নীরব হইয়া চক্ষু উন্মীলন পূর্বক আমার দিকে তাকাইয়া বলিলেন , মনে রাইখাে এইটা মায়ার জগৎ । সকলি ভুল , সকলি ভ্রান্তি । আমি বলিলাম , শ্রীঠাকুর , এই যে তুমি বলছ গুরুদেহ নামের দেহ । নাম এবং গুরুদেহ একই বস্তু । আমি এই কথার সমতা ভেবে পাই না । কারণ , নাম মুখে বড় করে উচ্চারণ করলে বাহিরে শব্দ বা ধ্বনি হয় । আর মনে মনে উচ্চারণ করলে শব্দহীন ধ্বনি ভিতরে হয় যা শূন্যময় । কিন্তু গুরুদেহে রক্ত মাংস অস্তি আছে । তাহলে নাম এবং গুরুদেহ এক বস্তু হইল কি ভাবে ? শ্রীঠাকুর বললেন , গুরুদেহে রক্ত মাংস অস্তি আছে তোমারে কে কইল ? জল থাইকা বরফ উৎপন্ন হয় । সেই বরফ কোন স্থানে চাপ দিলে নরম বোধ হয় , আবার কোন স্থানে চাপ দিলে অস্থির মত শক্ত মনে হয় । প্রকৃতপক্ষে সবটা বরফ ভিন্ন আর কিছু না । তেমনি গুরুদেহের সকল কিছু নাম ভিন্ন অপর কিছু না । সমস্ত দেহটা শূন্য । তুমি শুন নাই ? মহাপ্রভু চৈতন্যদেবের অত বড় দীর্ঘ দেহটা টোটা গোপীনাথের সঙ্গে শূন্যে বিলীন হইয়া গেল ? আমি বললাম , শুনেছি । কিন্তু বিশ্বাস করি না । শ্রীঠাকুর বললেন , আমি বলছি , তবুও তুমি বিশ্বাস কর না ? আমি আবার বললাম , না , করি না । যতক্ষণ আমি না দেখি নিজ নয়নে , বিশ্বাস করি না গুরুর বচনে । " জয়রাম " বাকি অংশ আগামীকাল শ্রী ফনীন্দ্র কুমার মালাকার লিখিত , " রামভাই স্মরণে " পৃষ্টা সংখ্যা ১১৪ হইতে ।