No title

 মন্দির বা তীর্থ পর্যটনের দরকার হয় না । ঘরে বসিয়া অনন্য চিত্তে গুরুদত্ত নাম জপে সবই হইয়া থাকে । বেদ বিধির প্রয়োজন হয় না । : - - শ্রীশ্রী রামঠাকুর । জয় গুরু জয় রাম । শুভ সকাল । শ্রীশ্রী রামঠাকুরের সহজ সরল পথ । সতীধর্মের পথ । এই পথাবলম্বনে সাধক সাধিকার যাগ-যোগ , নিয়ম বিধির বাহুল্য নাই । আছে শুধু শ্রীনামের সেবা আর শ্রীগুরুর উপর ধ্রুব বিশ্বাস স্থাপন , শরণাগতি । সকল ভার গুরুর উপর ছাড়িয়া কামনা-বাসনা শূন্য হইয়া ধৈৰ্য্য-সহ্য , সহকারে উপস্থিত সংসারের যাবতীয় কর্ম্ম সম্পাদনের সহিত অবিরাম নাম জপ করিয়া গেলে আধ্যাত্মিক উন্নতি আপনি হয় ৷ পৃথক ভাবে আসন , প্রাণায়াম , যোগাদির প্রয়োজন হয় না । ঠাকুর আরও বলিতেন মন্দির বা তীর্থ পর্যটনের দরকার হয় না । ঘরে বসিয়া অনন্য চিত্তে গুরুদত্ত নাম জপে সবই হইয়া থাকে । বেদ বিধির প্রয়োজন হয় না । টুন্ডলার কতিপয় ধর্ম্ম পিপাসু নরনারীগণের উপস্থিতিতে শ্রী সদানন্দ চক্ৰবৰ্ত্তী মহাশয় এমন করিয়া সহজ সরল ভাষায় শ্রীশ্রী ঠাকুর রামচন্দ্রদেবের কথা বারে বারে তাহাদের শুনাইতেন । তাঁহার মাধ্যমে শ্রীশ্রী ঠাকুরের সদ্য আশ্রিত জনদের খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন থাকিত , ঠাকুরজীর আশ্রয় যখন পাইলাম তখন আমাদের নাম-জপ ব্যতীত আর কিছুই কি করণীয় কর্ম্ম নাই ? সকল আশ্রয় প্রাপ্তদের একটি করিয়া শ্রীশ্রী রামঠাকুর মহাশয়ের শ্রীপট দিয়া বলিতেন , ' ইনি অর্থাৎ শ্রীশ্রী রামঠাকুরই তোমাদের গুরু । শ্রীগুরুর সেবা করিবে । ঠাকুরের সেবায় তেমন কিছুই লাগে না । যেই নাম পাইয়াছ সেই নামের যত্ন অর্থাৎ "নাম" করিলেই নামের সেবা করা হয় । তাহাতেই ঠাকুর সন্তুষ্ট হন । ঠাকুরের এই পট খানা পরিষ্কার স্থানে রাখিবে বা দেয়ালে টানাইয়া রাখিবে । আসা যাওয়ার মাঝে শ্রীপটের দিকে চাহিয়া প্রাপ্ত নাম মনে মনে স্মরণ করিতে চেষ্টায় রাখিবে । প্রতিদিন অন্ততঃ একবার শ্রীপট খানা মুছাইয়া প্রণাম করিবে । আর সর্বদাই নাম করার চেষ্টায় থাকিবে । যদি পার ঠাকুরের শ্রীপট মুছাইয়া এক মিনিট , দুই মিনিট , যতক্ষণ ইচ্ছা হয় বা ভাল লাগে শ্রীপটের দিকে চাহিয়া মনে মনে নাম করিতে থাক । এইরূপ অভ্যাস করিলে কিছুদিনের মধ্যেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনার মাঝে নিজেই অনুভব করিতে পারিবে শ্রীশ্রী রামঠাকুরের মহিমা । আমার ঠাকুরের জন্য কিছুই করার দরকার হয় না । বার বার ঠাকুর মহাশয়কে বলিতে শুনিয়াছি , " বেদ বিধির প্রয়োজন হয় না , নামেই সব হয় । " জয় রাম জয় গোবিন্দ । সদানন্দ চক্রবর্ত্তী । ছন্নাবতার শ্রীশ্রী রামঠাকুর । পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৬৪ হইতে ।

Post a Comment

Previous Post Next Post