"নাম সর্ব অবস্থায় পবিত্র – শুচি-অশুচির ঊর্ধ্বে ঠাকুরের বাণী"

 নাম সর্ব অবস্থায় পবিত্র , সেখানে শুচি অশুচি নাই , দিনক্ষণও নাই । যখন নেন , যতটা নেনে , ততই মঙ্গল । : - - শ্রীশ্রী রামঠাকুর । জয় গুরু জয় রাম । গুরু কৃপাহি কেবলম । শুভ সকাল । শ্রী মানোমোহন মালাকার স্তব্ধ হয়ে ঘরের এক পাশে বসেছিলেন, ক্ষণকাল পরে তিনি উঠে দাঁড়ালেন । ঠাকুর মহাশয়ের কাছে গিয়ে প্রণাম করে বললেন , ঠাকুর মহাশয় , আমাকে কি নাম দিবেন ? ঠাকুর মহাশয় বললেন , হ , এই নেন । দাতা উদ্যত কিন্তু যিনি নাম ভিক্ষা করলেন তিনি পশ্চাৎপদ । মালাকার বাবু বললেন , তিনি স্নান করেন নাই , বাসি কাপড়ও ছাড়েন নি , এই মত অবস্থায় নাম নেন কি করে ? তার অসুবিধার কথাটা ব্যক্ত করায় ঠাকুর মহাশয় বললেন , নাম সর্ব অবস্থায় পবিত্র , সেখানে শুচি অশুচি নাই । দিনক্ষণও নাই । যখন নেন , যতটা নেনে , ততই মঙ্গল । অনেকক্ষণ ধরে ঠাকুর মহাশয় নামের কথা মালাকার বাবুকে বললেন । কিন্তু বহু জন্ম জন্মান্তরীন সংস্কারের জগদ্দল পাষাণ স্তূপ তাহাতেও সূচ্যগ্র ভূমি নড়লো না । মালাকার বাবু জানতে চাইলেন যে ঠাকুর মহাশয় এখানে আগামীকাল পর্য্যন্ত থাকবেন কিনা । তাহলে তিনি আগামীকাল সকালে স্নান করে এসে নাম নেবেন । উত্তরে ঠাকুর মহাশয় বললেন , হ , আমি থাকুম । আপনার যখন ইচ্ছা , কালই নিতে পারেন । বাড়ীর দিকে কয়েক পা মাত্র অগ্রসর হয়েছিলেন মালাকার বাবু । সহসা ফিরে এসে আবার ঠাকুর মহাশয়ের কাছে নাম ভিক্ষা করিলেন , ঠাকুর মহাশয়ও নাম দিলেন । নামের অনেক কথা ঠাকুর মহাশয়ের শ্রীমুখ থেকে তিনি শুনলেন । তখন মালাকার বাবুর মনে হচ্ছিল তিনি যেন স্নান শেষে , দৌত বাসে , ঠাকুর মহাশয়ের কাছে বসে আছেন । এমন স্নিগ্ধ ও পবিত্র ভাব এর পর শ্রী মানোমোহন মালাকার বাবু তার নব্বই বৎসরের দীর্ঘ জীবনে আর কোন দিনও অনুভব করেন নাই । জয় রাম । ফনিভূষণ চক্রবর্ত্তী । শ্রুতিতে রামঠাকুর । পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪১ হইতে ।

 

🔸
🔸 "স্নান না করেও নাম গ্রহণ – ঠাকুর বললেন, নামের দিনক্ষণ নাই!"
🔸 "নামের মাহাত্ম্য | শ্রী মানোমোহন মালাকার ও ঠাকুর মহাশয়ের স্মরণীয় কথা"


🎞️ 🎵 Intro (5–7 সেকেন্ড):

🎶 শুভ সূর্যোদয়ের কিরণে ঠাকুরের বাণী উদ্ভাসিত হয়…
🕉️ “নাম সর্ব অবস্থায় পবিত্র। সেখানে শুচি-অশুচি নাই, দিনক্ষণও নাই।”
🌿 জয় গুরু, জয় রাম
📿 শ্রীশ্রী রামঠাকুরের কৃপাময় কথার ভিত্তিতে আজকের লীলা কাহিনি…


📖 Main Script: (ভয়েস ওভার)

🎙️

(কথনভঙ্গি শুরু হোক ধীরে ও গম্ভীরভাবে)

একদিন শ্রী মানোমোহন মালাকার এক কোণে স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলেন।
তার অন্তরে ছিল সংকোচ ও দ্বিধা।

পরক্ষণে তিনি উঠে এসে শ্রীশ্রী ঠাকুর মহাশয়ের কাছে প্রণাম করে বললেন—
“ঠাকুর মহাশয়, আমাকে কি নাম দেবেন?”

ঠাকুর বললেন –
“হঁ, এই নিন। দাতা প্রস্তুত আছেন। কিন্তু যিনি নাম ভিক্ষা করছেন, তিনি পিছিয়ে আছেন।”

মালাকার বাবু দ্বিধায় বললেন—
“আমি স্নান করিনি, বাসি কাপড়ও পরনে… এই অবস্থায় নাম গ্রহণ কি সম্ভব?”

ঠাকুর তখন স্নিগ্ধ অথচ দৃঢ় স্বরে বললেন—
“নাম সর্ব অবস্থায় পবিত্র।
সেখানে শুচি অশুচি নাই, দিনক্ষণও নাই।
যখন নেন, যতটা নেন, ততই মঙ্গল।”

এরপর ঠাকুর বহুক্ষণ ধরে নামের মাহাত্ম্য সম্পর্কে বললেন।
কিন্তু দীর্ঘকালের সংস্কার মালাকার বাবুর অন্তরকে তখনও নরম করতে পারলো না।

তিনি জানতে চাইলেন—
“ঠাকুর আপনি কি আগামীকাল থাকবেন? আমি কাল স্নান করে এসে নাম নেব।”

ঠাকুর বললেন—
“হঁ, থাকব। আপনার যখন ইচ্ছা, তখন নিতে পারেন।”

মালাকার বাবু বাড়ির দিকে কয়েক পা গিয়েছিলেন…
কিন্তু কিছুতেই মন স্থির হল না।

🌸 হঠাৎই তিনি ফিরে এলেন, ঠাকুরের চরণে বসে নাম ভিক্ষা করলেন
ঠাকুর অনন্ত করুণায় নাম দিলেন।

তারপর ঠাকুরের মুখ থেকে আরও শুনলেন নামের গোপন তত্ত্ব।

❣️ তখন মানোমোহন বাবুর মনে হল—
তিনি যেন স্নান সেরে, পরিস্কার বস্ত্র পরে, ঠাকুরের পাশে বসে আছেন।
এমন পবিত্রতা ও স্নিগ্ধ অনুভূতি তিনি আর কখনও অনুভব করেননি…
চিরজীবনের মধ্যে সেই দিনটি হয়ে থাকল এক মহান দিবস।


🌺 End Script (Closing narration):

📿
নাম শুধু শব্দ নয়,
নাম – ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ রূপ
ঠাকুর বলেছিলেন—
“নামের মধ্যে সবই আছে – মুক্তি, প্রেম, পরিত্রাণ, পরম শান্তি।”

🙏
যখনই পারি,
নাম জপ করি – সময় নাই, অশুচি নাই, স্থান নাই
শুধু হৃদয়ের আহ্বান চাই।

জয় রাম
জয় গোপাল
জয় গুরু

🌿 শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ
🕉️ @SriSriRamthakur

🎵 [শেষে হালকা সুরে কীর্তন/বাঁশি/তানপুরার শব্দ যুক্ত করতে পারেন]

Post a Comment

Previous Post Next Post