জয়রাম
শ্রীঠাকুর " মালসা ভোগ " নাম করণের ইতিহাস বললেন ,
এইভাবে -----
" মালসা ভোগ " নাম হইল কেন শুনেন ।
একদিন শ্রীবাস অঙ্গনে উৎসবের আয়োজন হয় ।
মহাপ্রভু কীর্তনে কখনও হাসি , কখনও কান্না , কখনও উদ্দন্ড নৃত্যে এতই বিভোর ছিলেন যে ভক্তরা প্রভুকে প্রসাদ গ্রহণ করতে বলতে সুযোগ ও সাহস পায় নাই ।
কীর্তনান্তে মহাপ্রভু সুস্থ হইয়া গদাধরেরে কইলেন ----
" গদাধর আজ তোমরা আমারে মহাপ্রসাদ দেও নাই " ।
"আমি ক্ষুধার্ত " । " আমারে মহাপ্রসাদ দেও " ।
এইকথা শুইনা শ্রীবাস গদাধরাদি ভক্ত অন্দরমহলে গিয়া
দেখেন কিছুই প্রসাদ নাই । তা শুইনা মহাপ্রভু উক্তি করলেন ,
" প্রসাদের শেষ নাই " ।
" প্রসাদ কখনও শেষ হয় না " । তোমরা যাও ।
গদাধরাদি ভক্ত গিয়া যেই পত্রে যেই যেই জিনিস ছিল ,
সেই সকল পাত্র পরিষ্কার কইরা অন্য একটা পাত্রে সমস্ত
জিনিস একত্র কইরা ঘৃত , দধি , মধু ,খই ,
বাদাম ,কিসমিস ,মনাক্কা ,জায়ফল ইত্যাদি সংগ্রহ কইরা আনন্দভরে আইসা মহাপ্রভুর সামনে পাত্রটি রাখলো ।
মহাপ্রভু দেইখা কইলেন ,
" একি এইখানে রাখছ কেন ? " " সব জিনিস একসঙ্গে মিলাইয়া প্রসাদ তৈয়ারী কইরা
সকলেরে দেও , আমারেও দেও "। গদাধর প্রসাদ দিল ।
মহা প্রভু বললেন ----
আমি অতীব ক্ষুধার্ত ছিলাম বইলা পরমতৃপ্তি সহকারে পেট ভইরা প্রসাদ পাইলাম ।
সেইদিন থাইকা এই প্রসাদের নাম " মালসা ভোগ " ।
এই বলিয়া শ্রীঠাকুর কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়া ধীরে ধীরে
বলিয়া উঠিলেন ,
" আমিই গৌরাঙ্গ দেব " " আমিই গৌরাঙ্গ দেব " ।
সঙ্গে সঙ্গে মধুদা
" শ্রীগুরু গৌরাঙ্গদেব প্রীতে " হরিধ্বনি দিয়া উঠলেন ,
তন্ময়তা ভঙ্গ হইয়া গেল ।
**জয় রাম **জয় শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ
জয় গুরু জয় রাম
জয় শ্রীশ্রী সত্যনারায়ন
গুরু কৃপাহী কেবলম্
গুরু দেবের শ্রী চরণে শত কোটি প্রণাম জানাই।
