No title

 "ঠাকুরের মৃত্যুর সময় উপেনবাবু কাছে ছিলেন। তিনি দেখলেন ঠাকুরের সমস্ত দেহ যেন অসাড় হয়ে গিয়েছে গলার মধ্যে ঘড় ঘড় শব্দ শুনতে পেলেন। পরমুহূর্তেই সব স্তব্ধ। ডক্টর উমেশ চৌধুরী পরীক্ষা করে বললেন ঠাকুর আর দেহে নেই। হিমশান্ত হিমাদ্রির নিমীলিত চোখ শুক্তির আধারে যেন মুক্ত শয়ানে শবাসনে তাপসের তপের সমাধি। নির্ঝরের স্বপ্ন ভাঙ্গে কান্নার সাগর, লাখো কন্ঠে জেগে ওঠে নাম সংকীর্তন। একের পর এক এগিয়ে যেতে লাগল ঠাকুরের কাছে রাখল "নগ্ন মূর্তি মরণের নিষ্কলঙ্ক চরণের সন্মুখে প্রনাম "। 1356 বঙ্গাব্দ। 18 ই বৈশাক। রবিবার। পুণ্য অক্ষয় তৃতীয়া তিথি। মাহেন্দ্রক্ষণ। ইং 1949 এর 1 লা মে। 90 বছর বয়সে শ্রীশ্রীরামঠাকুর লাখো লাখো ভক্তকে কান্নার সাগরে ভাসিয়ে মহাসমাধির অঙ্কে দেহ রেখে মিলিয়ে গেলেন পরমব্রক্ষে। বলে গেলেন "কোন চিন্তা নাই, গুরু সকল অভাব হইতে নিষ্কন্টকে উদ্ধার সাধন করিবেন এই গুরুর স্বভাব। গুরু কৃপা হয় সতত নাম হৃদয়ে উদগম থাকিলে। গুরুর মৃত্যু হয় না।" অগনিত ভক্ত সাশ্রু নয়নে প্রত্যক্ষ করতে লাগলেন তাঁদের প্রিয় প্রভুর প্রেমঘন হিরন্ময় বিগ্রহ। কাঁদোন ধোয়া কন্ঠ থেকে উৎসারিত হতে লাগল হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে। বাতাস যেন কয়ে গেল সবার কানে কানে রামঠাকুর নেই। রামঠাকুর নেই। প্রেম সুন্দর নাম প্রেমের বীজ বুনে করেছেন অন্তর্ধান। চলে গেছেন অসংখ্য মানুষের চোখের জলে তরণী ভাসিয়ে। ঠাকুরের লীলা অশেষ। এমন এক অশ্রর উজান ক্ষনে প্রাণকে বিস্মৃত করে দিয়ে নিয়ে এলেন ভক্তদের মনের গণ্ডিতে। কান্না রূপান্তরিত হল তর্কে। এমনিই এক জটিল মুহূর্তে মুক্ত বিহঙ্গ মায়ার রাজ্যে কায়া ফেলে রেখে উড়ে গেলেন নীল নির্জনে। পঁচিশ ছাব্বিশ ঘন্টা পরেও ঠাকুরের শ্রীদেহ ছিল অবিকৃত। শ্রীচরন যুগল ছিল ননী কোমল। কীর্তনীয়া ইন্দ্রের কন্ঠ চুঁইয়ে চুঁইয়ে ক্ষরিত হতে লাগল নামের সুধারস। কন্ঠ মিলালো হাজারো হাজারো ভক্ত। দিবসের সূর্য অস্তমিত হয়ে গিয়েছে অনেকক্ষন হল। বৈশাখের আকাশে তারার তিতিক্ষিত আঁখি। বাতাসে বিরহের কান্না। নদীর বুকে শোকের উথাল পাথাল। দু একটা নৈশ বিহগ কি করে যেন উড়ে গেল দিগন্তে। রাত আটটা বাংলোর বাইরে খাটের পর রাখা হল দেহ। করান হল স্নান। সজ্জিত করা হল ফুল চুন্দনে। শ্রীচরনযুগলে দেওয়া হল স্বর্ণতুলসী। রাত্রির শেষ যাম। ভোরের আকাশে উষার আরাত্রিক। মহাপ্রস্থানের পথে পথে বিচিত্র ফুল সম্ভার। প্রহর জাগা পাখীটার কন্ঠে কান্নার কাতরিমা। ধ্রুবতারা এখনো জ্বলছে আকাশের নীল সামিয়ানায়। বাক্ষমুহূর্ত মুহুমুহু হুলুধ্বনি ভেঙ্গে দেয় নৈশ স্তব্ধতা। কীর্তন কন্ঠে ভৈরবী রাগিনী। হিমগর্ভ সমাধির বুকে ঢেলে দিল ভক্তবৃন্দ অশ্রুর অঞ্জলি। রাম রবে মুখরিত আগত প্রত্যূষ। নিমীলিত হল শবাধার। জয় রাম জয় রাম জয় রাম ধ্বনি প্রতিধ্বনি তোলে মহাব্যোমে।


Post a Comment

Previous Post Next Post