No title

 কীর্তনান্তে মহাপ্রভু সুস্থ হইয়া গদাধরেরে কইলেন ---- " গদাধর আজ তোমরা আমারে মহাপ্রসাদ দেও নাই " । আমি ক্ষুধার্ত " । জয়রাম 卐 জয়গুরু । 🌼 শুভ সকাল । " মালসা ভোগ " নাম হইল কেন ? ফেনীর মালাকার বাড়ির রাজসূয় যজ্ঞের " মালসা ভোগ" শ্রী ঠাকুরকে দিতে ভুলে যাওয়ায় , শ্রীঠাকুর " মালসা ভোগ " নাম করণের ইতিহাস বললেন , এইভাবে ----- " মালসা ভোগ " নাম হইল কেন শুনেন । একদিন শ্রীবাস অঙ্গনে উৎসবের আয়োজন হয় । মহাপ্রভু কীর্তনে কখনও হাসি , কখনও কান্না , কখনও উদ্দন্ড নৃত্যে এতই বিভোর ছিলেন যে ভক্তরা প্রভুকে প্রসাদ গ্রহণ করতে বলতে সুযোগ ও সাহস পায় নাই । কীর্তনান্তে মহাপ্রভু সুস্থ হইয়া গদাধরেরে কইলেন ---- " গদাধর আজ তোমরা আমারে মহাপ্রসাদ দেও নাই " । "আমি ক্ষুধার্ত " । " আমারে মহাপ্রসাদ দেও " । এইকথা শুইনা শ্রীবাস গদাধরাদি ভক্ত অন্দরমহলে গিয়া দেখেন কিছুই প্রসাদ নাই । তা শুইনা মহাপ্রভু উক্তি করলেন , " প্রসাদের শেষ নাই " । " প্রসাদ কখনও শেষ হয় না " । তোমরা যাও । গদাধরাদি ভক্ত গিয়া যেই পত্রে যেই যেই জিনিস ছিল , সেই সকল পাত্র পরিষ্কার কইরা অন্য একটা পাত্রে সমস্ত জিনিস একত্র কইরা ঘৃত , দধি , মধু ,খই , বাদাম ,কিসমিস ,মনাক্কা ,জায়ফল ইত্যাদি সংগ্রহ কইরা আনন্দভরে আইসা মহাপ্রভুর সামনে পাত্রটি রাখলো । মহাপ্রভু দেইখা কইলেন , " একি এইখানে রাখছ কেন ? " " সাব জিনিস একসঙ্গে মিলাইয়া প্রসাদ তৈয়ারী কইরা সকলেরে দেও , আমারেও দেও "। গদাধর প্রসাদ দিল । মহা প্রভু বললেন ---- আমি অতীব ক্ষুধার্ত ছিলাম বইলা পরমতৃপ্তি সহকারে পেট ভইরা প্রসাদ পাইলাম । ( পাঠক পাঠিকা গণ লক্ষ্য করিবেন , শ্রীঠাকুরের কথা কিভাবে মোড় নিতেছে ) সেইদিন থাইকা এই প্রসাদের নাম " মালসা ভোগ " । এই বলিয়া শ্রীঠাকুর কিছুক্ষণ নীরব থাকিয়া ধীরে ধীরে বলিয়া উঠিলেন , " আমিই গৌরাঙ্গ দেব " " আমিই গৌরাঙ্গ দেব " । সঙ্গে সঙ্গে মধুদা " শ্রীগুরু গৌরাঙ্গদেব প্রীতে " হরিধ্বনি দিয়া উঠলেন , তন্ময়তা ভঙ্গ হইয়া গেল । " জয়রাম " শ্রী বিশ্বনাথ চক্রবর্ত্তী , " কুইজ অন্ শ্রীরামঠাকুর " পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৩ হইতে । এবং শ্রী ফনীন্দ্র কুমার মালাকার , " রামভাই স্মরণে " পৃষ্ঠা সংখ্যা ৯৮ হইতে ।

Post a Comment

Previous Post Next Post